কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫ এ ১০:২১ AM

ডিজিটাল সেন্টার

কন্টেন্ট: পাতা

ডিজিটাল সেন্টার : জনগণের দোরগোড়ায় সেবা

  • জনগণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে নাগরিকের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবাসমূহ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এটুআই এর উদ্যোগে, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং ইউএনডিপি ও ইউএসএইডের কারিগরি সহায়তায় ২০০৭ সালে সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুরে ২টি সেন্টার নিয়ে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (UISC) -এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশব্যাপী সকল ইউনিয়নে UISC এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রগুলো ডিজিটাল সেন্টার নামে সর্বত্র সুপরিচিত।

  • ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউডিসি সমূহের সেবা পৌঁছানোর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে দেশের সকল পৌরসভায় ‘পৌর ডিজিটাল সেন্টার’ এবং সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে ‘নগর ডিজিটাল সেন্টার’, ২০১৬ সালে ‘উপজেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টার’ ও ‘জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টার’, ২০১৮ সালে বিশেষ জনগোষ্টির চাহিদার আলোকে স্পেশালইজড ডিজিটাল সেন্টার ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সৌদিআরবে ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট ডিজিটাল সেন্টার’, সম্প্রতি গ্রাম পর্যায়ে ভিলেজ ডিজিটাল সেন্টার ও বাজার ভিত্তিক একসেবা ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। এছাড়াও ইউএনডিপির সহায়তায় ফিলিপাইনের বাংসোমারো প্রদেশে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেন্টার মডেলের আদলে ডিজিটাল সেন্টার রেপ্লিকেট করা হয়েছে।

  • ডিজিটাল সেন্টারসমূহ মূলত মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ যা উপজেলা-জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্বাচিত একজন পুরুষ ও একজন নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত হয়। বর্তমানে দেশব্যাপী ৯৪০৫টি ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তাগণ আর্থিক সেবা (ব্যাংকিং), ই-টিকেটিং, দক্ষতা-প্রশিক্ষণ, প্রবাসী সেবা, ই-কমার্স সেবা, সিএমএসএমই সেবা, টেলি হেলথ সেবাসহ ৩০০টির অধিক সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদান করছেন। নাগরিকদের জীবনমান পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল সেন্টার দেশি-বিদেশি সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১৪ সালে ই-গভর্নমেন্ট ক্যাটাগরিতে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU)-এর ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (WSIS) অ্যাওয়ার্ড।

  • ১ যুগের বেশি সময় ধরে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি এর বিনিময়ে সরকারি সেবা (পর্চা, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের আবেদন ও ফি প্রদান, হজ্ব প্রাক নিবন্ধন, ই-চালান, ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, অনলাইন জিডি, কৃষি তথ্য, বিভিন্ন ধরণের সনদ, সরকারি সেবার ফরম, টেলিমিডিসিন, জীবন বীমা এবং বিদেশে চাকরির আবেদন এবং অন্যান্য সরকারি সেবার আবেদন) এবং বেসরকারি সেবা (এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, রুরাল ই-কমার্স, বাস-বিমান-লঞ্চ টিকেটিং, মোবাইল রিচার্জ, সিম বিক্রয়, পরিষেবা বিল, ভিসা আবেদন, ডাক্তারের এপয়েনমেন্ট, পরীক্ষার ফলাফল, বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি) প্রদান করে যাচ্ছে। প্রতিমাসে প্রায় ৭৫ লক্ষ নাগরিক ডিজিটাল সেন্টার হতে তাদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা গ্রহণ করছেন। প্রতিনিয়ত ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা প্রদানের পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল সেন্টার- একজন পুরুষ ও একজন নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক ডিজিটাল সেন্টার পরিচালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তাঁর এখতিয়ারাধীন ইউনিয়ন পরিষদসমূহে এবং জেলা প্রশাসক তাঁর জেলার ইউনিয়নসমূহের ডিজিটাল সেন্টারসমূহ সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সচিব এবং উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও উদ্যোক্তাদের সকল সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা বেতনভোগী কোন কর্মচারী নয়, তারা জনসাধারণকে সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে। ডিজিটাল সেন্টারের উপকরণ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্ব উদ্যোক্তার। প্রয়োজন অনুযায়ী উপকরণ বাড়াতে উদ্যোক্তা নিজে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ডিজিটাল সেন্টারকে সচল রাখা, আয় বৃদ্ধি ও টেকসইকরণের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও সচিবের সাথে সমন্বয় করে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরামর্শে উদ্যোক্তা সকল প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।

বর্তমানে ডিজিটাল সেন্টারের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ-

  • একসেবা অনলাইন প্ল্যাটফরম- ‘উদ্যোক্তার জন্য এক ঠিকানায় সকল সেবা’- এই শ্লোগানে সরকারি-বেসরকারি সেবাসমূহকে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা কর্তৃক একটি একক অনলাইন প্লাটফর্ম হতে প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে “একসেবা উদ্যোক্তা”। একসেবা প্লাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা জনগণকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবার পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা, রুরাল এসিস্টেড ই-কমার্স সেবা, সরকারি ভাতা যেমন-বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা সেবা প্রদান করছে। এ প্লাটফরমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেকোনো ই-সেবা সহজেই এতে সংযোজন করা যায়। পাশাপাশি যেকোন মন্ত্রনালয়/অধিদপ্তর/সরকারি অফিস তাদের সেবা জনগণের নিকট দ্রুত ও স্বল্প খরচে পৌঁছাতে এই প্লাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন। ইতোমধ্যে একসেবায় সংযোজন করা হয়েছে ৩০০+ সরকারি-বেসরকারি ই-সেবা। একসেবা প্লাটফর্মের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন প্রত্যক্ষভাবে উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে পারেন।

  • এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং- এটুআই ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিতদের সহজে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের জন্য ডিজিটাল সেন্টারে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৪৬০০টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে যাচ্ছে জনগণের দোরগোড়ায় খুব সহজেই। ডিজিটাল সেন্টার থেকে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। হিসাব খোলা, এজেন্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রদান ও আমানত গ্রহণ, নির্দিষ্ট হারে অর্থ লেনদেন, টাকা জমা ও উত্তোলন, ক্লিয়ারিং চেক ও ঋণের আবেদন গ্রহণ, বিতরণ ও কিস্তি সংগ্রহ, রেমিট্যান্স অর্থ প্রদান, বিদ্যুৎ বিল জমা, ভাতা বিতরণ, অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স জানা ও সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রদান, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা, চেক বই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, পাসপোর্ট ফি প্রদান, সামাজিক নিরপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ভাতাভোগীর অর্থ প্রদান ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা জনগণ খুব সহজেই পাচ্ছে। ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও এজেন্ট ব্যাংকিং সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

  • প্রবাসী হেল্প ডেস্ক- প্রবাসীর জন্য এক ঠিকানায় সকল সেবা নিয়ে ডিজিটাল সেন্টার ভিত্তিক উদ্যোগ। বর্তমানে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ১৮২০টি প্রবাসী হেল্প ডেস্ক -এর কার্যক্রম চলমান আছে। এসকল সেন্টার বৈদেশিক রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৫৪ কোটি টাকার অধিক।

  • সিএমএসএমই- কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের সেবা প্রদানের জন্য ২০০টি উপজেলাতে ডিজিটাল সেন্টার ভিত্তিক 'স্মার্ট সিএমএসএমই হাব' পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সিএমএসএমই 'সম্মৃদ্ধি' পয়েন্ট থেকে উদ্যোক্তারা এক্সেস টু ফাইন্যান্স,এক্সেস টু মার্কেট, ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ সেবা, ব্যবসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নথী তৈরি, ব্যবসার দক্ষতা উন্নয়নে আর্থিক ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর দক্ষতা তৈরিসহ প্রাসঙ্গিক সকল সেবা সহজেই একত্রে নিতে পারছে।

  • স্কীলস ফিউশন সেন্টার- কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ডিজিটাল সেন্টার ভিত্তিক স্কীলস ফিউশন সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০টি জেলার ৪২টি সেন্টারে। এসকল সেন্টারগুলো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে বেকার, যুবক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৫টি কোর্স এখান থেকে করা যায় এবং প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য হিসেবে কম্পিউটার, সেলাই মেশিন, মোবাইল সার্ভিসিং ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ এর কথা বলা যায়। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফরম মুক্তপাঠের কোর্সগুলো সহজে ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

ডিজিটাল সেন্টারসমূহ মূলত- ১. শহরের সুবিধা গ্রামে-গ্রামের সুবিধা শহরে পৌঁছানো, ২. আত্মকর্মসংস্থান (উদ্যোক্তা তৈরী ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা), ৩. নারীর ক্ষমতায়ন, ৪. সরকারি সেবা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ৫. স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ -এর জন্য কাজ করে থাকে। এছাড়াও ডিজিটাল সেন্টারসমূহ Sustainable Development Goals (SDGs)বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’র দারিদ্র্য বিমোচন (এসডিজি ১); লিঙ্গ সমতা (এসডিজি ৫); শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (এসডিজি ৮); শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো (এসডিজি ৯); অসমতার হ্রাস (এসডিজি ১০); জলবায়ু কার্যক্রম (এসডিজি ১৩); শান্তি, ন্যায় বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান (এসডিজি ১৬); টেকসই উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্ব (এসডিজি ১৭) উদ্দ্যেশ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।

অনেক উন্নয়নশীল দেশের মত বাংলাদেশেও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকারি অফিসগুলোর মাধ্যমে বিস্তীর্ণ পরিসরে সরকারি সেবা প্রদান করা হয় যা সেবাগ্রহীতা এবং প্রদানকারী উভয়ের জন্য অধিক শ্রমসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ। দেশের অধিকাংশ নাগরিক যারা গ্রামে বসবাস করেন তাদের শহরে বা উপজেলা শহরে অবস্থিত সরকারি অফিস থেকে সেবা গ্রহণে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে সেখানে যেতে হয় এবং যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। সরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেশের জনগণের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম, অধিক খরচ বহন এবং বিড়ম্বনার স্বীকার হওয়া এসব সমস্যা দূরীকরণে ডিজিটাল সেন্টার নামে এসকল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারসমূহ চালু করা হয়। গ্রামীন জনগোষ্ঠীর বাড়ি থেকে এসকল সেন্টারসমূহের গড় দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার যেখানে সরকারি উপজেলা অফিসের দূরত্ব সাধারণত ২০ কিলোমিটার এবং জেলা অফিসের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটারেরও বেশি। ডিজিটাল সেন্টারসমূহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন গ্রামীন নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বৃদ্ধ যারা নিরক্ষর ও আইসিটি বিষয়ে দক্ষতা কম তাদের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করছে।

বিস্তারিত জানতে- uddokta.eksheba.gov.bd

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন