বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৭ আষাঢ়, ১৪২৫
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে : স্পিকার


প্রকাশন তারিখ : 2017-12-11

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।
তিনি রবিবার রাজধানীর শাহবাগে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার-এ ‘দারিদ্র বিমোচন ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।
সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজিস) আয়োজিত এই কনভেনশনে মানবাধিকার সম্পর্কিত এপিপিজিস’র চেয়ারপারসন ডা. দীপু মনি এমপি’র সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল শিশির শীলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার লোককেন্দ্র সংগঠনের সভাপতি রেবতী ঘরামী।
কনভেনশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন অক্সফামের কান্টি ডিরেক্টর দীপংকর দত্ত।
স্পিকার বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ। বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে তাঁর সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানে দারিদ্র্য ৪০ শতাংশ থেকে ২৪.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
তিনি বলেন, যারা এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে সেইসব হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়। বাজেটে দারিদ্র্য বিমোচনকে অগ্রাধিকার ও প্রধান্য দিয়ে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়। সেখানে নারী, শিশু এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সারাবিশ্বে দারিদ্র বিমোচনের জন্য যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে তার মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একটি অন্যতম। বাংলাদেশ এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্ঠায় এই লক্ষ্য অর্জন অবশ্যই সম্ভব। এর একটি অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে প্রবৃদ্ধি অর্জন।
তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির সুফল নি¤œ আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। প্রবৃদ্ধি অর্জনই শুধু দারিদ্র বিমোচনের জন্য যথেষ্ট নয়। সেই প্রবৃদ্ধি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যে প্রবৃদ্ধি নি¤œ আয়ের মানেুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে এবং তাদের অবস্থার পরিবর্তন ও উন্নয়ন করতে পারে। এটা করতে হলে কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, স্বাধীনতা শুধু গণতন্ত্রের জন্য হয়নি, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যও হয়েছে। শ্রমিক, গরীব, নারী, আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার ছাড়া গণতন্ত্র একটি পোড়ারুটির মতো, যা খাওয়া যায় না। সমাজতন্ত্র ছাড়া, শোষণমুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। ভাল গণতন্ত্রের জন্য অর্থনীতিতে শোষণমুক্তির কার্যক্রম চালাতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারের কথা সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান মানেন, আর বেগম খালেদা জিয়া সংবিধান মানেন না। এজন্য তিনি খুনিদের পুনর্বাসন করেছেন, তাদের সম্মানিত করেছেন। আর গরীবদের জন্য কিছু করেননি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা হচ্ছে ভৌগলিক স্বাধীনতা এবং শোষণ ও অর্থনৈতিক মুক্তি। ভৌগলিক স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে হয়েছে। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার যুদ্ধ এখনো চলছে। পরবর্তীতে সংবিধানে জাতির পিতা চারটি মূল নীতি অন্তর্ভুক্ত করেন এর একটি অন্যতম নীতি হলো সামাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী সময়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান ও এর পরে খালেদা জিয়া এই চারনীতি সংবিধান থেকে বাদ দেয়। অর্থাৎ সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি দরকার নেই। এরপর পশ্চিমের তথাকথিত মুক্তবাজার অর্থনীতির কাছে ইজারা দেয়া হয়। এতে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাড়ে এবং উন্নয়নের ধারা কমে যায়।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সংবিধানে আবারো চারনীতি অন্তর্ভূক্ত করেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে। এতে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ সামনে উঠে আসে।
হাসানুল হক ইনু বলেন, বৈষম্যমূলক সমাজ দারিদ্র্য উৎপাদন করতেই থাকে। দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে দরিদ্র পুনরায় উৎপাদনের কারণ নির্ণয় করতে হবে, তাহলেই সফল হওয়া সম্ভব।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সন্তোষজনক হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দুর্নীতি আরো কমানো গেলে এই প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হতো। সুতরাং দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আরো বেশি জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, দারিদ্য্র বিমোচনের পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়ে জোর দিতে হবে। আর সামাজিক ভারসাম্য তৈরী করতে না পারলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।