বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৮ আশ্বিন, ১৪২৫
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd জানুয়ারি ২০১৮

৯ বছরে জাতীয় গ্রীডে ১১,১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে


প্রকাশন তারিখ : 2018-01-03

গত ৯ বছরে জাতীয় গ্রীডে মোট ১১ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট (এমডব্লিউ) বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে। এতে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়ন ঘটেছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য-আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকার অতিরিক্ত ৮৫টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন, ২ হাজার ৬২২ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করেছে।
নসরুল হামিদ বলেন, ‘ভারত, জাপান, চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের সহযোগিতায় পাবলিক ও প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় সরকার ১৩টি মেঘা প্রকল্প ও ৫ হাজার ৯২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা আশা করছি, ১৩শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম মেগা প্রকল্প পায়রা’র উৎপাদন ২০১৯ সালের এপ্রিলে শুরু হবে।’
তিনি বলেন, বিল পরিশোধ প্রক্রিয়া সহজ করা ও শতভাগ বিল আদায়ের লক্ষ্যে প্রি-পেইড মিটারিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে এবং ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে আরো ২৭ লাখ মিটার চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহক সেবায় গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে বিশেষ করে বৃহৎ নগরীগুলোতে আন্ডারগ্রাউন্ড ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের উন্নয়নের জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
জ্বালানি বিনিয়োগ প্রসারণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাস দিনে দিনে ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে রূপান্তরিত জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি ক্রমশঃ কয়লা, এলএনজি ও অন্যান্য সহজে প্রাপ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও এই সেক্টরের সার্বিক উন্নয়নে সরকার পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি)-২০১৬ তৈরি করেছে।’
তিনি বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরো সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ও ভারত থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে।
নসরুল জানান, এছাড়াও অফ-গ্রিড গ্রামাঞ্চলে সাড়ে ৪ কোটি সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) ও ১০টি সোলার মিনি গ্রিড স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকার ২০১৮ সালের মধ্যে ৬ কোটি এসএইচএস ও ৫০টি সোলার মিনি-গ্রিড স্থাপনের মাধ্যমে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
পাওয়ার সেল-এর মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন বাসস’কে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যুতের সিস্টেম লস ১৬.৮৫ শতাংশ থেকে কমে ১২.১৯ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪৩৩ কেডব্লিউএইচ-এ পৌঁছেছে। দেশে এখন মোট গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ।
তিনি বলেন, ‘সরকার পিপিপি’র আওতায় প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক সঞ্চালন প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম আমলের সরকার ১৯৯৭ সালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল।’
হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবেলায় সরকার ‘সাসটেইনেবল এন্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এসআরইডিএ)’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণকালে দেশে বিদ্যুতের চরম সংকট চলছিল। ওই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট থাকলেও, উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট।
এতে বলা হয়, ওই সময় গ্রীষ্মকালে আট থেকে ১০ ঘণ্টার লোডশেডিং থাকায় জনগণকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৬ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।