বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ১০ মাঘ, ১৪২৪
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২nd জানুয়ারি ২০১৮

দেশবাসী নতুন বছরে ৪জি এমএনসি স্যাটেলাইট সুবিধা পাবেন


প্রকাশন তারিখ : 2018-01-02

বাংলাদেশ ২০১৮ সালে কিছু মাইল স্টোন উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে। দেশের টেলিকমিউনিকেশন, তথ্য প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য এটি হবে বড় ধরনের অগ্রগতি।
নতুন বছরে বাংলাদেশ দেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট ”বঙ্গবন্ধু-১” মহাকাশে উৎক্ষেপন করবে। টেলিকম রেগুলেটর ফোরজি/এলটিই সেবা চালু করতে ইতোমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেবা প্রদানে মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি (এমএনপি) অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বাসসকে বলেন, ২০১৮ সালে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড দৃশ্যমান হবে। জনগণ এর সুফল পাবে। তিনি আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচীর উল্লেখ করে বলেন, সরকার আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফলবয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু -১ এখন মহাকাশে উৎক্শেপনের অপেক্ষায় আছে। এটির সফল প্রস্তুত কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। এটি উৎক্ষেপনের পর বাংলাদেশ ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট ওয়নিংক্লাবে যোগ দিবে।
বাংলাদেশ ২০১৫ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সের থালেস এলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্যাটেলাইটটিতে ৪০টি ট্রান্সপোন্ডার রয়েছে। এটি সার্ক সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনে ও তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের মতো দেশে সেবা প্রদানে সক্ষম হবে। একটি ট্রান্সপোন্ডার ৩৬ এমএইচ’র সমান।
বাংলাদেশ টেলিভিশন চ্যানেল, টেলিফোন এবং বেতার সংযোগের জন্য স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন মাকির্ন ডলার ব্যায় করে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হবার পর দেশ বছরে ১১০ থেকে ১২০ কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) দেশে ফোরজি সেবা চালু করতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ফোরজি ণাইসেন্স ইস্যু করবে। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনটি ভিন্ন ব্যান্ডের জন্য অকশন দেয়া হবে।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, দুটি নতুন কোম্পানি ফোরজি / এলটিই লাইসেন্স নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তিনি কোম্পানি দুটির নাম প্রকাশে অস্বীকার করেন। নতুন বছরে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি (এমএনপি) চালু করার মাধ্যমে যোগাযোগ সেক্টরের আরো একটি উইং সংযুক্তহতে যাচ্ছে। বিটিআরসি গত ৩০ নভেম্বর এমএনপি যৌথ কোম্পানি ইনফোজিলিয়ন বিডি টেলিটক কনসোর্টিয়ামের কাছে লাইসেন্স হস্তান্তর করে। কোম্পানির ব্যাস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন বলেন, আমরা লাইসেন্সের শর্তানুযায়ি আগামী মার্চ মাসের মধ্যে সেবা প্রদানে প্রস্তুত। কোম্পানি অবশ্যই লাইসেন্স পাবার ১৮০ দিনের মধ্যে সেবা প্রদান করবে।

মোবাইল হ্যান্ডসেট সংযোজনে স্থানীয় কোম্পানিগুলোও এগিয়ে আসছে। ওয়ালটনের অনুসরণে স্থানীয় দু’টি কোম্পানি ডব্লিউই ও সিম্পনি মোবাইল হ্যান্ডসেট সংযোজনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার বিশাল কোম্পানি স্যামসাং স্থানীয়ভাবে হ্যান্ডসেট তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনটি স্থানীয় কোম্পানি মাসে ১০ লাখ হ্যান্ডসেট তৈরি করবে। বিটিআরসি’র সূত্রে জানা যায়, বছরে ৩ কোটি হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়। এর সবই আমদানিকৃত।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি বাংলাদেশ ডাক বিভাগে ‘ডাক টাকা’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়ালেট চালু করেছেন। ব্যাংকে একাউন্ট নেই তৃণমূলের এমন মানুষদের ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এই ওয়ালেট চালু করা হয়।
ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে যে কেউ কার্ড, এ্যাপ ও অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে। অধিক আর্থিক সেবার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ ক্ষেত্রে নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এমএফসি) কুইক রেসপন্স (কিউআর) কোডও কাজে লাগানো হবে।
ডাক টাকা ব্যবহারকারীরা অন্যান্য আর্থিক ব্যবহার মাধ্যমেও লেনদেন করতে পারবে।
বাংলাদেশ ভারতের উদ্যোগে চালু সাউথ এশিয়ান স্যাটেলাইটেও যুক্ত হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ একটি চুক্তি হয়। ভারত ও বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলংকা, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল এই স্যাটেলাইটে যুক্ত হওয়ার ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই স্যাটেলাইট টেলিকমিউনিকেশন এবং আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্যাদির সুফল পেতে তৈরি করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান অ্যাপস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (আইএসআরও) এটি তৈরি করেছে। এর স্থায়িত্বকাল হচ্ছে ১২ বছর। এটি সার্ক অঞ্চলকে ধারণ করতে পারবে।
এদিকে বিটিসিএল কানেকটিভিটিকে জোরদার করতে একটি একক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভয়েস ট্রান্সমিশনের পাশাপাশি ভিডিও এবং ডাটা ফ্যাসিলিটির জন্য ট্রিপল-প্লে নেটওয়ার্ক চালুর একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর আওতায় ১৬ লাখ সংযোগ ধারণক্ষম থ্রি ইন্টারনেট মাল্টিমিডিয়া সাব-সিস্টেম প্লাটফরমস প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এ ছাড়া ২৩৬৭ কি.মি. ফাইবার অপটিক প্যানেলের দ্বারা কুপার ক্যাবল প্রতিস্থাপন এবং ৭৯৩ কি.মি. নতুন কুপার ক্যাবলও স্থাপন করা হবে।
এই প্রকল্পে প্রত্যেকটি একশ’ জিবিপিএস ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি ব্যাকবোন ইক্যুইপমেন্ট। আইপি নেটওয়ার্কের জন্য ৬টি কোর রুবার, ১৪৩টি এক্সসেস সুইস ও ১৩৯টি অন্যান্য সুইস সংগ্রহ করা হবে।
এ ছাড়া সার্বক্ষণিক টেলিফোন সংযোগ, নেটওয়ার্ক অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের জন্য একট কেন্দ্রীয় মনিটরিং সিস্টেমও চালু হবে।