বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
  • ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা


প্রকাশন তারিখ : 2017-12-14

দেশে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অধিকতর অর্থায়নের উদ্দেশ্যে সরকার ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা (সিআইপি)’ শীর্ষক একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে আগামী ৫ বছরে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বুধবার জাতীয় এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা সিআইপির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ডেভিড ডুলান, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউএসএআইডির মিশন পরিচালক জেনিনা জেরুজালস্কি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউএসএআইডির অর্থায়ন এবং ফাও এর কারিগরি সহায়তায় ৫ বছর মেয়াদী এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।বাংলাদেশের পরিবেশ খাতে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্চ মোকাবেলায় প্রায় ২ বছর সময় নিয়ে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়।এটি পরিবেশ খাতে বিশ্বের প্রথম আন্ত:সংস্থা ও আন্ত:সেক্টরাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে অবদান রাখে এমন ১৭০টি প্রকল্প আছে। এই প্রকল্পসমূহে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে সিআইপির হিসাবমতে সরকারের চলমান পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ অন্যান্য জাতীয় পরিকল্পনায় যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করা হয়েছে, তা অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে আরো প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন,দেশে পরিবেশের উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশসম্মত বিনিয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জনগনকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন,সরকারের পরিকল্পনা হলো-জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। তবে বাংলাদেশকে কেবল পরিবেশসম্মত উদ্যোগ নিলে চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব উন্নত দেশ কার্বন নি:সরণ করে পরিবেশ দূষিত করেছে,তাদের আগে এগিয়ে আসতে হবে।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সরকার এমন সব নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে সকলের জন্য প্রকৃত প্রস্তাবেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে সঠিক ও অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্প নির্বাচনে এই কৌশলগত বিনিয়োগ প্রকল্প সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ইউএসএআইডির মিশন পরিচালক জেনিনা জেরুজালস্কি বলেন, সিআইপি বাস্তবায়নে আরো ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কেননা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
ফাও বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ডেভিড ডুলান পরিবেশ খাতে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের নিবিড় তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।